প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ভিপি নুরকে দেখতে গেলেন আ.লীগ নেতারা

ডাকসু ভবনে ঢুকে ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনাকে অনেক বেশি বর্বর এবং পৈশাচিক আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করলে সে যেই মঞ্চই হোক, কোনো মঞ্চকেই রেহাই দেওয়া হবে না কাউকে।

রোববার (২২ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগের হামলায় আহত ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরকে দেখতে যান তিনি। এরপর সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন নানক। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ওসাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

নানকের বক্তব্যের সময় ভারতের দালালেরা, হুশিয়ার সাবধান বলে স্লোগান দিতে দেখা যায় নুরের ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীদের। হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (যেখানে নুরসহ আহতরা ভর্তি আছেন) ঢুকতে তাদের বাধা দেন শিক্ষার্থীরা। বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টার পর নানক ও নাছিম সেখানে প্রবেশ করেন। এসময় তিনি নুরের বাবাকে সান্ত্বনা দেন। নুরের সঙ্গে আহত সবার প্রতি সহমর্মিতা জানান।

আহতদের দেখে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে নানক বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি শুনে খুবই মর্মাহত হয়েছেন। তিনি পুরো দিন চট্টগ্রামে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা এখানে এসেছি। ঘটনাটি এত পৈশাচিক, এত বর্বর হয়েছে তা বুঝতে পারিনি। এ কয়দিন আমরা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। আজকে যেটি হয়েছে বা এর আগের কোনো ঘটনায় ঢাবিসহ কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি সরকার সহ্য করবে না।

তিনি বলেন, ‘ভিপি নুরসহ ছাত্রদের ওপর যে হামলা হয়েছে এটা রাজনৈতিক কোনো প্রতিহিংসার ব্যাপার নয়। কোনো দুষ্কৃতকারী, কোনো জায়গার বা কারও নির্দেশে ঢাবিকে অশান্ত করার এই প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। যে মঞ্চই হোক, যে মঞ্চের নামেই এই গোলযোগ করুক, কাউকেই সরকার রেহাই দেবে না, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

নানক আরো বলেন, ‘আমরা তাদের (আহতদের) শুধু দেখতে এসেছি। এখানে রোগীরা আইসিইউতে রয়েছে, এ ছাড়া হাসপাতালে অনেক জরুরি রোগী রয়েছে, ভারতের দালাল বলে এখানে যারা স্লোগান দিচ্ছে এরা কারা? এরা কি চায়, এদের উদ্দেশ্য কী? তাদের কুমতলব রয়েছে। প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে এদের কুমতলবের বিষয়ে। এরা কারা, কী চায়, এদের উদ্দেশ্য কী তা আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আইন রক্ষাকারী বাহিনীও সব বিষয় খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। কোনো মঞ্চই যাতে কোনো গোলযোগ করে ঢাবিকে অশান্ত করতে না পারে।’

সরকারের সঙ্গে সাধারণ ছাত্রদের একটা আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখানে গুটিকয়েক ছেলে গোলযোগ করছে। সরকারের সঙ্গে আস্থার সংকট হয়নি। আমি বলব সরকারের ওপর আস্থা রাখতে হবে। সরকার শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার্থে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে’।

এর আগে বেলা পৌনে ১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর ও তার অনুসারীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ডাকসু ভবনের মূল ফটক বন্ধ করে নুরের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করা হয়। এছাড়া বাইরে থেকেও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা ইট-পাটকেল ছুড়েন। হামলায় নুর ও তার সংগঠনের ২২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। নুরুল হকসহ অন্তত ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় দুইজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়েছে। এই হামলার জন্য নুর ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চকে দায়ী করেছেন।

জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী এ হামলায় অংশ নেন।

এ সময় ডাকসুর সদস্য ও ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য তাদেরকে বাধা দিতে গেলে তাকেও শিবির আখ্যা দিয়ে লাঞ্ছিত করেন মঞ্চের নেতাকর্মীরা।

এদিকে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও গণফোরাম সভপতি ড. কামাল হোসেন। তারা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

গুলশানে বিএনপি’র সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ডাকসু ভিপির ওপর হামলার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, নির্মমভাবে নুরুল হক নুরের ওপর হামলা হয়েছে ডাকুস ভবনে। তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। তার সঙ্গে আরও অনেকেই আহত হয়েছেন। অবিলম্বে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামধারী ছাত্রলীগের হামলায় ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরসহ অনেকে আহত হয়েছেন। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ একাংশ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান এক বিবৃতিতে ভিপি নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ডাকসু ভিপি নুরুল হক এবং তার সহকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া হামলার ঘটনাটি ‘পরিকল্পিত গুণ্ডামী’। ডাকসু ভিপির কক্ষে প্রবেশ করে যেভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে তা রীতিমত নজিরবিহীন।

সাইফুল হক অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তার কারণে দিনের পর দিন নুরের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটছে। নির্বাচিত ভিপির বিরুদ্ধে এই ধরনের হামলা-আক্রমণের দায় সরকার ও সরকারি দলকেই গ্রহণ করতে হবে।

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় সভাপতি এম. হাছিবুল ইসলাম ভিপি নুরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার শিকার আহত নুরকে দেখতে ঢামেক হাসপাতালে গেছেন বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি হাবিবুন নবী খান সোহেল।

বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, রোববার দুপুরে ঢামেকে চিকিৎসাধীন নুরকে দেখতে যান হাবিবুন নবী খান সোহেল, ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, বিএনপির সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

ছাত্র ঐক্যের আহ্বায়ক সাকিব আনোয়ার জানান, রোববার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ সংগঠনের কয়েকজন নেতা ভিপি নুরুকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন।

গণফোরামের দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ আজাদ হোসেন জানান, দলের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ঢামেক হাসপাতালে আহতদের দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মুহাম্মদ উল্লাহ মধু।

পূর্বপশ্চিম/এসএস

Leave a Reply

%d bloggers like this: