অন্যান্য

কোম্পানীগঞ্জে স্কুল ছাত্রীকে প্রেম নিবেদনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অস্ত্রসহ আটক-২

গিয়াস উদ্দিন রনি, নোয়াখালী: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের পেশকারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে একই স্কুলের ৮ম ও ৯ম শ্রেণীর দু’ছাত্রের প্রেম নিবেদনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ দুই ছাত্রকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। রবিবার (৩০জুন) দুপুরে বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পেশকারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র রহমত উল্যাহ আকবর (১৫) ও ৯ম শ্রেণীর ছাত্র আমজাদ হোসেন রাফি (১৬) একই স্কুলের ৮ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে প্রেম নিবেদন করে। এ নিয়ে আকবর ও রাফির মধ্যে তুমুল বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উভয় পক্ষে একই স্কুলের ছাত্র ও বহিরাগতরা দু’পক্ষ হয়ে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় স্থানীয় জনতা সংঘর্ষে লিপ্ত আকবর ও রাফিকে অস্ত্রসহ আটক করে। সংবাদ পেয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সল আহমেদ ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১টি বড় দেশীয় কিরিচসহ আকবর ও রাফিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। রহমত উল্যাহ আকবর চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৯নং ওযার্ডের বিজয় নগর এলাকার সর্দার বাড়ীর ছানা উল্যাহ ভুঞার ছেলে ও আমজাদ হোসেন রাফি রামপুর ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ডের কালা মিয়া মুক্তার বাড়ীর আবু নাছেরের ছেলে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্কুলের অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু বখাটে ছেলের ইভটিজিং ও নানা ধরনের হয়রানীর কারণে স্কুলে যাওয়া আসার পথে স্কুল ছাত্রীরা নিরাপত্তার অভাব অনুভব করে। কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষ ইভটিজিং ও বখাটেদের বখাটেপনা রোধে কার্যকরি কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় স্কুলের ছাত্রী ও অভিভাবকরা খুবই বেকায়দায় আছে। পেশকারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.জসিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্কুলে কোন ধরনের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবী করলেও স্কুল ক্যাম্পাসের বাহিরে ছেলেরা ছেলেরা হট্টগোল হয়েছে বলে তিনি জানান। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সল আহমেদ জানান, আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। 

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, সংবাদ পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত দু’ছাত্রকে অস্ত্রসহ আটক করে থানায় আনা হয়েছে। পরবর্তীতে রামপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার চৌধুরীর মধ্যস্থতায় আটককৃত ছাত্রদের অভিভাবক মুচলেকা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

Facebook Comments

Related Posts