“সাংবাদিক লাঞ্চিত করে আবারও বিতর্কিত শাকিব”

এফডিসিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় বিনোদন সাংবাদিকদের উপর সন্ত্রাসী কায়দায় চড়াও হন শাকিব খান। ৮ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে এফডিসিতে শাহেনশাহ ছবির শুটিং স্পটে তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম দেন।

জানা গেছে সেসময় হঠাৎ শাকিব খানের সঙ্গে সিডাব সদস্যদের ঝামেলা বাঁধে। তাদের ঝগড়া মারামারি পর্যায়ে চলে যায়। শাকিব খান তখন উত্তেজিত হয়ে সিডাব সদস্যদের মারতে যান। এ সময় সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে প্রথমে বাধা দেন ইউনিটের লোকজন। পরে শাকিব খান এসে মিডিয়াভুবন২৪.কমের সাংবাদিক জিয়া উদ্দীন আলমের উপর চড়াও হন। এই সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে শাকিব খানের হাতে জিয়াউদ্দিন আলম শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হন। শাকিব খান তখন জিয়াউদ্দিন আলমের মোবাইল ফোন নিজ হাতে ছিনিয়ে নিয়ে মেকাপ রুমে চলে যান। তিনি আলমের মোবাইল ফোনের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ডিলেট করে দেন। এ সময় শাকিব খান উপস্থিত এনটিভি অনলাইনের মাজহার বাবু, আমাদের সময়.কমের মুহিব আল হাসান ও নিউজজিটোয়েন্টিফোর.কমের সুদীপ্ত সাইদ খানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তাদের মোবাইলের গুরুত্বপূর্ন ফাইলও ডিলেট করে দেন।

এফডিসিতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার নেতৃত্ব দেন বিতর্কিত নির্মাতা শামীম আহমেদ রনি। যিনি এর আগেও চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতি ভঙ্গ ও সমিতির আচরণ বহির্ভূত কাজের জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়েছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে সিডাব থেকে কম পক্ষে তিন জন সহকারী পরিচালক নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু শামীম আহমেদ রনি তার পরিচালনায় নির্মাণাধীন শাহেনশাহ ছবির শুটিংয়ে সিডাবের একজন মাত্র সদস্য নিয়ে শুটিং করছিলেন। এটা নিয়ে সিডাব কর্মকর্তাদের সাথে তার কয়েকদিন ধরেই ঝামেলা চলছিল। আজ শুটিংয়ের সময় সিডাব কর্মকর্তা ও সদস্যরা শাহেনশাহ ছবির শুটিংয়ে গিয়ে রনির কাছে বিষয়টি সুরাহা করতে বলেন। তারা কথা বলতে বলতে এক সময় তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন। এক পর্যায়ে এই ঘটনায় রনির সাথে যোগ দেন শাকিব খান নিজেও। রনি আর শাকিব মিলে সিডাব সদস্যের ধাওয়া করে এফডিসির ল্যাব চত্বর থেকে শিল্পী সমিতির সামনে চলে আসে। এই সময় রনি ও শাকিব দুজনেই অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন বলেন জানান ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা একজন সাংবাদিক। আর ওই ঘটনা নিজের মোবাইলে ধারণ করা তথা পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে শাকিবের হাতে লাঞ্চিত হলেন সাংবাদিক জিয়াউদ্দিন আলম।

এ প্রসঙ্গে জিয়াউদ্দিন আলম বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি আমার প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতিতে (বাচসাস) আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করবো। অন্য দিকে এই বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্যে সাংবাদিকরা শাকিবের মোবাইল ফোনে বার বার ফোন করেও কোন সাড়া পাননি বলে জানা গেছে।

Facebook Comments