সালাত ও সালাতুল উস্তার গুরুত্ব

সালাত ও সালাতুল উস্তার গুরুত্ব

ডাঃ হাফেজ মাওলানা মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর:   সালাত আল্লাহর একটি ফরজ ইবাদত যা সকল মুসলমানের জন্য আদায় করা বাধ্যতামূলক। এটি মানুষের মধ্যে আল্লাহর ভয়, সততা, সৎকর্মশীলতা ও পবিত্রতার আবেগ এবং আল্লাহার বিধানের আনুগত্যের ভাবধারা সৃষ্টি করে৷ আর সেই সংগে তাকে ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখে। শুধু তাই নয় নামাজ মু’মিন ও মুশরিকদের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে দেই। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, মুমিন ও কাফেরের মধ্যে পার্থক্য হল ছালাত (ছহীহ মুসলিম হা/১৩৪, ঈমান অধ্যায়; ফাতাওয়া উছায়মীন, ১২ খন্ড, পৃঃ ১০০)। অর্থাৎ মুমিনরা সালাত আদায় করে আর মুশরিকরা সালাত আদায় করে না। নামায ত্যাগকারী কাফের তার দলীল সমুহঃ মহান আল্লাহ তাআ’লা সুরা তাওবায় এরশাদ করেছেনঃ فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ “অবশ্য তারা যদি তওবা করে, নামায কায়েম করে আর যাকাত আদায় করে, তাহলে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই।” (সুরা আত-তাওবাঃ ১১) এ আয়াতে প্রমান হয় যারা নামাজ কায়েম করে না তারা মুসলমানদের দ্বীনি ভাই হতে পারে না। আর এটাও প্রমান হয় ইসলামে সালাতের গ্ররুত্ব কতখানি। সালাতকে মূলত চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে যথা ১. ৫ ওয়াক্ত ফরজ সালাত যা সকলের পড়া বাধ্যতামূলক। ২. ওয়াজিব সালাত যেমন দুই ঈদের নামাজ ও বিতরের নামাজ, ৩. সান্নাত সালাত যেমন ফজর, যহর ও ঈশার নামাজের আগে পরে পড়া হয় এবং জানাযার নামাজ ও তাহাজ্জুতের নামাজ, ৪. নফল সালাত যা রাসূল (সঃ) কখনো পড়তেন আবার কখন পড়তেন না ।

এটি হারাম সময় ছাড়া যে কোন সময় পড়া যায়। >>সালাতুল উসতা<<
সালাত অর্থ প্রার্থনা, ডাকা, দোয়া ইত্যাদি আর উস্তা অর্থ মধ্যবর্তী, উন্নত, সম্মানী ইত্যাদি একসাথে সালাতুল উস্তা বলতে ঐ সালাতকে বলা হয় যা মধ্যবর্তী সময়ে পড়া হয় আবার উন্নত মানের নামাজকেও সালাতুল উস্তা বলা হয়। এ নামাজ সম্পর্কে মহার আল্লাহ তা’য়ালা ২৩৮ নং আয়াতে বলেন-﴿حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ﴾
২৩৮) তোমরা নামাজের ব্যপারে অতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাজে ৷ আল্লাহর সামনে এমনভাবে দাঁড়াও যেমন অনুগত বান্দারা দাঁড়ায় ৷

অধিকাংশ ওলামায়ে-কেরাম মত ব্যক্ত করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসরের নামাযটিকে ‘সালাতুল উস্তা’ বা মধ্যবর্তী নামাজ বলে ঘোষণা করেছেন৷ দলীল হিসেবে তারা এ বুখারীর ২৯৩১ নং হাদীসটি উল্লেখ করেছেন যে, উহুদ যুদ্ধের সময় মুশিরকেদর আক্রমণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এতদূর ব্যস্ত রেখেছিল যার ফলে বেলা গড়িয়ে একেবারে সূর্য ডুবু ডুবু হয়েছিল৷ অথচ তখনো তিনি আসরের নাময পড়তে পারেননি৷ তখন তিনি বললেনঃ ”আল্লাহ তাদের কবর ও তাদের ঘর আগুনে ভরে দিন৷ তারা আমাদের ‘সালাতুল উস্তা’ পড়তে দেয়নি৷” এর উপর ভিত্তি করেই অধিকাংশ আলেম আসরের নামাজকে সালাতুল উস্তা বলেছেন। আর মানুষেরা যেহেতু সারাদিনের কর্মব্যস্ততার কারনে অধিকাংশ সময় আসরের নামাজ পড়তে ভুলে যায় তাই আসরকেই সালাতুল উস্তা বলেছেন।

আবার কেউ ফজরের নামাজকে সালাতুল উস্তা বলেছেন যেহেতু রাতের শেষ ও দিনের শুরু তাই এটিকে মধ্যবর্তি সময়ও বলা যায়। আর অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকার কারণে ফজরের নামাজ পড়তে পারে না তাই এটিকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য ফজরকে সালাতুল উস্তা বলা যায়। আবার এ শব্দটি এমন জিনিস সম্পর্কও ব্যবহৃত হয় যা উন্নত ও উৎকৃষ্ট৷ এটি ধরলে সকল ফরজ নামাজকে সালাতুল উস্তা বলা যায় কারন ৫ ওয়াক্ত সালাত যেন অতি উন্নত ও উৎকৃষ্ট মানের হয় সে ব্যপারে আল্লাহ বারবার তাকিদ করেছেন। ‘সালাতুল উস্তা’ এর মধ্যবর্তী নামাযও হতে পারে আবার এমন নামাযও হতে পারে, যা সঠিক সময়ে পূর্ণ একাগ্রতার সাথে আল্লাহর প্রতি গভীরভাবে মন সংযোগ সহকারে পড়া হয় এবং যার মধ্যে নামাযের যাবতীয় গুণেরও সমাবেশ ঘটে।

 

লেখকঃ
সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলাম প্রচার পরিষদ, খুলনা মহানগরী
চেয়ারম্যানঃ খুলনা হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্র
খুলনা কম্পিউটার ট্রেনিং এন্ড ডিজাইন হাউজ

Facebook Comments