--------------------------------------------------------------------------------

বন্ধুত্বের জয়গানে এসএসসি ২০০৭ ও এইচএসসি ২০০৯ বাংলাদেশ

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বছর ধরে সারা দেশের এবং দেশের বাহিরের তরুণ তরুণীরা ফেসবুকের মাধ্যমে এক হয়ে উদ্যাপন করছেন বন্ধুত্ব। স্রেফ আনন্দই নয়, বাস্তবে সামাজিক নানান দায়িত্বও তাঁরা পালন করছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। আজ রোববার বন্ধু দিবস। ‘বন্ধু’ শব্দটি ছোট, কিন্তু এর গভীরতা অনেক। বন্ধুত্বের ব্যাপ্তি সীমাহীন।
আজ ৪ আগস্ট, বিশ্ব বন্ধু দিবস। তবে এও ঠিক, বন্ধুত্বের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ লাগে না। বন্ধুত্বের কোনো বয়সসীমা নেই। সমবয়সীরাও যেমন বন্ধু হতে পারে, তেমনি বয়সে ছোট-বড়রাও বন্ধু হতে পারে। মনের মিল হলেই বন্ধু হওয়া যায়। বন্ধু দিবসের পরিকল্পনা ও উৎপত্তি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে ১৯১৯ সালে সর্বপ্রথম আগস্ট মাসের প্রথম রোববার ‘বন্ধু দিবস’ হিসেবে ফেসবুকের কিছু গ্রুপ পালন করা হয়েছিল।
বন্ধুত্বের শক্তি বিশাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে তাঁরা লাগাচ্ছেন নানান ইতিবাচক কাজে। বেকার বন্ধু বা স্বজনদের চাকরির ব্যবস্থা করা, বিনা মূল্যে জরুরি রক্তের প্রয়োজনে ছুটে যাওয়া, প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেশের বাইরে থেকে নিয়ে বা দিয়ে আসার কাজটি সহজেই হয়ে যাচ্ছে গ্রুপ পোস্টের মাধ্যমে। দল বেঁধে আবার বেরিয়ে পড়ছেন ভ্রমণে; বনভোজন, ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, কনসার্ট, ইফতার পার্টি বা পিঠা উৎসবের মতো আয়োজনও হচ্ছে নিয়মিত। গত ঈদের আগে এসএসসি ২০০৭ –এইচএসসি ২০০৯ গ্রুপের সদস্যরা দেশজুড়ে পথশিশুদের নতুন জামা উপহার দেওয়ার জন্য ‘সাইলেন্ট স্মাইল’ নামের এক চমৎকার আয়োজন করেছেন। এবারও করছেন। কেবল দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আরব আমিরাতের বন্ধুরা স্বেচ্ছায় রক্তদানও করেছেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্কুলসামগ্রী বিতরণ, বৃক্ষরোপণ অভিযান, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পসহ নানান ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুস্থদের পাশে থাকছেন সবাই মিলে। ‘
একতাই সাহস, একতাই শক্তি’—এই মূলমন্ত্র নিয়ে ২০০৭ সালে এসএসসি ২০০৯–এইচএসসি ০৭০৯ গ্রুপের যাত্রা শুরু হয় ২০১৮। বছর না ঘুরতেই নানান ধরনের জনহিতকর কাজ করেছেন এর সদস্যরা। এই তো গত কালকেই গাইবান্ধায় বন্যার্তদের ত্রাণ দিতে গেছে গ্রুপটির সদস্যরা। গ্রুপটির এডমিন নিপা, শরিফুল, আশরাফুল এবং মডারেটর সজিব, সাইমুম, রেজওয়ান, কাজল, রুনা, নাজনিন, বাকি প্রমুখ বলছিলেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা, ‘আমরা একটি কল্যাণ তহবিল গঠন করার চিন্তা করছি। পথশিশুদের জন্য স্কুল এবং বয়স্ক মানুষের জন্য প্রবীণনিবাস তৈরির পরিকল্পনাও আছে। চিকিৎসা সেবা পায় না এমন মানুষের জন্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করাও আমাদের স্বপ্ন। এসব সত্যি করা খুব সম্ভব। কারণ, বন্ধুত্বের শক্তি প্রচণ্ড, এটা আমরা বাস্তবে দেখেছি।’

শেষ বাক্যটি সব গ্রুপের সদস্যই মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন। তাই সংগীতশিল্পী তপুর গানে গলা মেলাতে পারেন সবাই, ‘তোরা ছিলি তোরা আছিস/ জানি তোরাই থাকবি/ বন্ধু—বোঝে আমাকে/ বন্ধু আছে আর কী লাগে?? জয় হোক বন্ধুতের।

Facebook Comments