বিনোদন

আন্তর্জাতিক নাশীদ শিল্পী ইকবাল এইচজে’র ব্যতিক্রমী জন্মদিন

নাঈম হোসেন পলাশ , বিশেষ প্রতিনিধি:  সময়ের বেশ জনপ্রিয় ও আলোচিত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সফল বাংলাদেশী নাশীদ শিল্পী ইকবাল হুসাইন জীবনের (ইকবাল এইচ জে) ব্যতিক্রমী জন্মদিন পালিত। ব্যতিক্রমী জন্মদিনে কোনো কেক কাটা নয়, কোনো উৎযাপনও নয়। শিল্পী তার জন্মদিন ইসলামিক কালচারের মধ্য দিয়ে পালন করেন কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ছাড়া। তবে তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্খীদের সাথে জন্মদিনে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখেন। লাইভে এসে তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা দেন, কোন কেক কেটে সেলিব্রেট করার মাধ্যমে তিনি জন্মদিন পালন করেননা বরং মহান রবের কাছে আগামী দিনের জন্যে দোয়া এবং এতদিন হায়াৎ দানের জন্যে কৃতজ্ঞতা পালন দিয়েই তিনি জন্মদিনকে স্মরণ করেন। ফেইসবুক লাইভে এসে শিল্পী তাঁর অগণিত ভক্তদের বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের উত্তর এবং কিছু গান গেয়ে সবার ভালোবাসার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ইসলামী সংগীতের এই শিল্পী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত হলেও বর্তমানে তিনি আমেরিকাতে বসবাস করছেন। ২০০১ সাল থেকে শুরু করে ২০১৮ সাল পর্যন্ত খুব সফলতার সাথেই ইসলামী সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন পৃথিবীর প্রান্তরে প্রান্তরে দেশ থেকে দেশান্তরে। ২০১৮ সালে ১৮ বছর পূর্ণ হলেই কিছুটা বিরতি নেয়ার কথা ছিল গুণী এই শিল্পীর, কিন্তু দেশে বিদেশে তার অগণিত ভক্তের ভালোবাসায় হঠাৎ ঘোষণা দেন এখনই বিরতি নয়। নিয়ে এলেন নতুন চমক ব্র্যান্ড নিউ অ্যালবাম ” শো মি দা ওয়ে” রিলিজ করেছেন আলোচিত এবং ব্যয়বহুল মিউজিক ভিডিও ”হাসবুন আল্লাহ” এবং ”হাবিবি” যা দেশে বিদেশে তার ভক্তদের মাঝে বেশ সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছে। শিল্পী নিজে যেমন ভক্তদের মর্যাদা রেখেছেন এবং ভালোবেসেছেন, ঠিক তেমনি তাঁর কাজের ১৮ বছরের মাথায় তার ভক্তরাই তাকে উপহার স্বরূপ উপাধি দিয়েছেন ”ইসলামী সংগীতের যুবরাজ”।
গুনী এ শিল্পীর জন্মদিনে তার ভক্তদের শুভেচ্ছা জানানোর ধরণও ছিল ব্যতিক্রম। তার ভক্তদের কিছু কমেন্ট ফেসবুক ওয়াল থেকে তুলে ধরা হচ্ছে। ফেসবুকে নিজের ওয়ালে স্বপ্লীল সজীব লিখেন, শুভ জন্মদিন ইসলামী সংগীতের (নাশীদের) যুবরাজ। একবিংশ শতাব্দীর এই আধুনিক প্রযুক্তির বিস্ময়কর যুগে যখন এদেশে আমার মতো অসংখ্য দিকহারা যুবক সম্প্রদায় অপসংস্কৃতি ভয়াল থাবায় ডুবে আছি,সেই সময়ে আপনার নাশিদ গুলো এই হাজারো, লক্ষ যুবক সম্প্রদায়ের মনের মণি কোঠায় জায়গা করেছে নিয়েছে এবং নিতে সক্ষম হয়েছে।
আরিয়ান মিজান অনেক লম্বা খোলা চিঠির শেষে লিখেন: শুভ জন্মদিন প্রাণপ্রিয় শিল্পী জীবন, জন্মদিনে রইলো অনেক মুবারকবাদ ও অভিনন্দন সামনের জীবন ভালো কাটুক এটাই প্রত্যাশা রইলো আর ইসলামিক সাংস্কৃতিকে বহু দূর এগিয়ে নিয়ে যান এটাই কামনা রইলো।
সুচিস্মিতা বিনতে রশীদ লিখেছেন:  আজ আমাদের প্রিয় শিল্পী ইকবাল এইচ জে’র জন্মদিন। চলে যাওয়া একটি বছরকে আল্লাহ যেনো নেক আমল হিসেবে কবুল করেন, আমরা সকলে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেনো উনাকে হায়াতে তাইয়্যেবাহ দান করেন এবং প্রতিটি বছর যেনো উনার জন্যে নতুন সাফল্যের বছর হিসেবে কবুল করেন।
নজরুল ইসলাম রানা লিখেছে, শুভ জন্মদিন প্রিয় কলিজার ভাই প্রিয় শিল্পী ইকবাল এইচ জে। অনেক শুভ কামনা রইল আগামীর দিনগুলোর জন্য। মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন আপনাকে দুনিয়াতে যেমন সম্মানিত করেছেন, আখিরাতেও তেমন সম্মানিত করুক। ইসলামি সংস্কৃতির জন্য আপনার অবদান গুলো যেন মহান আল্লাহ পাক কবুল করে নেন।
নিউ ইয়র্ক থেকে শিল্পী সালাউদ্দিন মো. রাসেল লিখেন, “মহান রব সংস্কৃতির জন্য আপনার নেক হায়াত এবং যোগ্যতা বাড়িয়ে দিক। মিষ্টি কন্ঠের নাশীদের জন্য আমৃত্যু কাজ করার তাওফিক দিক”।
বর্তমান সময়ের তরুণ কবি রাকিবুল এহছান মিনার, শিল্পী ইকবাল হুসাইন জীবন কে নিয়ে গানের পাখি শিরোনামে চমৎকার কবিতা লিখেন: মানবতার গান শুনিয়ে দাও জাগিয়ে চোখ যতো, ভালোবাসো বিরোধিদের কুৎসা দেয়া লোক যতো। হৃদয় তোমার উদার আকাশ আলো ছড়ায় চাঁদ যতো, ভালোবেসেই দিচ্ছো ভেঙ্গে হিংসা ঘৃণার বাঁধ যতো। (অংশ বিশেষ)
ইসরাত জাহান ইতি লিখেন, “বিশ্বময় অপসংস্কৃতির বিস্তারে যখন মুসলিমরা দিশেহারা হয়ে পড়ে তখন তাদের হালাল কিছু বিনোদনের প্রয়োজন হয়। অঅমাদের সেই হালাল বিনোদন দেওয়ার জন্য যারা কাজ করেন তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইকবাল হুসাইন জীবন”।
শহিদুল ইসলাম লিখেন, “শুভ জন্মদিন সংস্কৃতির অন্যতম কিংবদন্তী মহান প্রভু সুস্থ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় আপনার যোগ্যতাকে আরো বাড়িয়ে দিক। আপনার কন্ঠ ছুয়ে যাক প্রতিটি মুসলিমের হৃদয়ে”। এভাবে অগণিত ভক্ত এবং প্রিয়জনেরা তাদের প্রিয় শিল্পীর শুভক্ষণে শুভকামনা এবং ভালোবাসা জানিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে লন্ডনে যাওয়ার পর থেকেই তিনি ইসলামী সংস্কৃতিকে সারা বিশ্বের মুসলমানদের মাঝে পৌঁছে দেয়ার মিশন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। যদিও শিল্পী ইকবাল এই অঙ্গনে কাজ শুরু করেছিলেন ২০০১ সাল থেকেই তবুও এই নাশিদ শিল্পী বাণিজ্যিক ভাবে কিংবা বৃহত্তর পরিসরে তার প্রথম অ্যালবাম “মেক মি ইওর ফ্রেন্ড” রিলিজ করার পরই বেশ সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছিলেন। যার ধারাবাহিকতায় ইকবাল ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে এবং আমেরিকার একাধিক স্টেটে পারফরম্যান্স করার পাশাপাশি মুনা এবং ইকনার মত বৃহত্তম মুসলিম অর্গানাইজেশনে কালচারাল ইভেন্টে নাশিদ পরিবেশন করেন। আইপিএল (ইনস্টিটিউট ফর পিস্ এন্ড লিডারশিপ, নিউ ইয়র্ক), আইটিভি বেস্ট সিঙ্গার অ্যাওয়ার্ড এবং আরাউজার এক্সট্রাঅর্ডিনারি সিঙ্গার অ্যাওয়ার্ড সহ তিনি একাধিক ন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।
লাব্বাইক আল্লাহ, হাসবি রাব্বি, ভালোবাসা, মুস্তাফা, হাসবুনাল্লাহ, আল্লাহর ভয় সহ সর্বশেষ মালায়েশিতে হাবিবীর অফিসিয়াল মুইউজিক ভিডিও নির্মাণের  মাধ্যমে শিল্পী ইকবাল দেশে বিদেশে নাশিদ প্রেমী মানুষের হৃদয়ে তার জায়গা করে নেন, বিশেষ করে তরুণ ছেলে মেয়েরা এবং স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়ায় কিংবা স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে আধুনিক এই নাশিদ ভিডিও গুলোকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। যারফলে খুব কম সময়ে শিল্পী ইকবাল পৌঁছে গেছেন কোটি মানুষের মাঝে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তার রয়েছে লক্ষাধিক ফ্যান এবং ফলোয়ার।
Facebook Comments

Related Posts