নোয়াখালী কবিরহাটে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ

মোঃ সেলিম, নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী কবিরহাট উপজেলাধীন কবিরহাট পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ ঘোষাবাগে জাহাঙ্গীর মাষ্টারের বাড়িতে নুর জাহান আক্তার ছাইমা (১৬) নামের এক স্কুল ছাত্রীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেছে তার প্রেমিক। ভিকটিম জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে স্কুল থেকে আসার পর তার প্রেমিক নাহিদুল হক (২৩) ফোন করে তাকে জানান তাদের বাড়িতে কেউ নেই শুধু তার বোন রয়েছে বাকি সবাই তার কোন আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবে তার বোন বাড়িতে একা তাই তার সাথে থাকার জন্য তাকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পরে ভিকটিম তার মাকে বিষয়টি জানালে তার মা পেয়ারা বেগম ভিকটিমকে নিষেধ করে না যাওয়ার জন্য এক পর্যায়ে তাদের দুই পরিবারের মধ্যে আগ থেকে আত্মীয়তার বন্ধন থাকায় ছেলে নাহিদ তার মাকেও মোবাইল ফোনে অনুরোধ করলে ভিকটিম তাদের বাড়িতে যান।

ভিকটিম নুর জাহান আক্তার ছাইমা তার বাড়িতে গিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে চলে আসতে চাইলে নাহিদ তাকে জোর করে ঘরে নিয়ে অনুরোধ করলে সে থাকার জন্য রাজি হন। এর পর তাকে ঘরে রেখে নাহিদ বাজারে গিয়ে নাস্তা আনেন।

নাস্তা আনার পর খাওয়া দাওয়া করে নাহিদ তার বিছানায় গেলে তাকে সহবাস করতে প্রস্তাব দিলে সে রাজি না হলে এক পর্যায়ে তাকে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দেন তার পরে তার সাথে সহবাসে লিপ্ত হন নাহিদ। পরে তাদের প্রেম নিলার বিষয়ে স্থানীয়রা টেরপেয়ে রাত ১টার দিকে তাদের ঘর ঘিরাও করে জানালা দিয়ে তাদের দুজনকে নগ্ন অবস্থায় দেখতে পায়। তখন স্থানীয়রা তাদের নগ্ন ছবিও তোলেন জানালার ফাঁক দিয়ে। এরপর নাহিদকে ডাকাডাকি করলে নাহিদ দরজা খোলা যাবেনা বল্লে স্থানীয়রা ঘরের দরজা ভাঙ্গার প্রস্তুতি নিলে নাহিদ ভিতর থেকে দরজা খুলে দিয়ে স্থানীয় কয়েক জনের পায়ে ধরে ক্ষমা চাই যে বিষয়টা কাউকে না জানানোর জন্য। পরে স্থানীয় নবী ডিলার, বাবুল, ওহাব ও রাসেল কমিশনার মিলে নাহিদের ওয়ার্ড কমিশনার অজিউল্যাকে মোবাইল ফোনে বিস্তারিত জানান। জানার পর অজিউল্যা কমিশনার তার ছেলে রনিকে ঘটনাস্থলে পাঠান। রনি ঘটনাস্থলে এসে থমথমে পরিস্থিতি দেখে ছেলে নাহিদকে তার বাবা সহ রাসেল কমিশনারের হাতে হস্তান্তর করেন।

এক পর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে ভিকটিম নুর জাহান আক্তার ছাইমাকে তার সাথে তাদের বাড়িতে নিয়ে যান। এর পর অজিউল্যা কমিশনার বাড়িতে এসে বিস্তারিত জেনে ভিকটিমের এলাকা একই উপজেলার ০২ নং সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সুন্দলপুর গ্রামের বর্তমান মেম্বার শামিমকে মোবাইল ফোনে বিস্তারিত জানিয়ে মেয়ের মাকে নিয়ে তার বাড়িতে যাওয়ার অনুরোধ করেন। অনুরোধের এক পর্যায়ে শামিম মেম্বার ছাইমার মা পেয়ারা বেগমকে নিয়ে রাত দেড়টার সময় কমিশনারের বাড়িতে গিয়ে থমথম পরিস্থিতি দেখে মেয়েকে তাদের জিম্মায় নিতে অস্বীকার করলে তৎক্ষণাৎ পৌর মেয়রকে ঘটনাটি অবহিত করেন কমিশনার অজিউল্যা। তার পর মেয়র কবিরহাট থানা পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠান। পরে রাতে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে থানায় মহিলা পুলিশ না থাকায় শুক্রবার সকাল ১০টায় ভিকটিমকে থানায় আনার নির্দেশ দিয়ে স্থানীয় কমিশনার অজিউল্যার জিম্মায় রেখে আসেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা মোহাম্মদ হাসান জানান, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। এবং ছেলের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তিনি আরো জানান, আমাদের থানায় মহিলা পুলিশ না থাকায় রাতে ভিকটিম নুর জাহান আক্তার ছাইমাকে স্থানীয় কমিশনার অজিউল্যার জিম্মায় রেখে এসেছিলাম। সকালে মেয়েটিকে থানায় হাজির করার পর স্থানীয় মেয়র উক্ত ঘটনার সুস্থ বিচার করে দিবেন বলে সময় নিয়ে মেয়েকে তার পরিবারের হাতে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে ভিকটিম তার ন্যায্য বিচার না ফেলে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা তার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ধর্ষিতা নুর জাহান আক্তার ছাইমা কবিরহাট উপজেলার ০২নং সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সুন্দলপুর গ্রামের জসিমউদ্দিনের মেয়ে সে নতুন শাহাজিরহাটস্থ ঘোষবাগ কাদেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত বখাটে প্রেমিক ও ধর্ষণকারী নাহিদুল হক কবিরহাট পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ ঘোষবাগ গ্রামের নতুন শাহাজিরহাটস্থ ঘোষবাগ কাদেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

Facebook Comments