--------------------------------------------------------------------------------

নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মান এখন সময়ের দাবি

আল আমিন:  অবিভক্ত ভারতবর্ষের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক নগরী, শিক্ষা ও ব্যবসা বাণিজ্যে সমৃদ্ধশালী এবং পর্যটন বিকাশে অন্যতম সম্ভাবনাময় জেলা- নোয়াখালীতে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চাই যৌক্তিক কারনে দেশ ও জাতীর স্বার্থে নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মান করা অতি জরুরী।

ঢাকা শহরের উপর থেকে গন মানুষের চাপ কমাতে ও যানজট মুক্ত ঢাকা শহর গড়তে। বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বর্থে বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও ভোলা জেলাসমূহের উন্নয়নের স্বার্থে উক্ত জেলা গুলির মধ্যবর্তী স্থানে নোয়াখালীতে বিমানবন্দর নির্মান সময়ের দাবি। আমাদের দেশের একতৃতীয়াংশ অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে প্রবাসীরা। আর প্রবাসী সমৃদ্ধ এলাকার মধ্যে অন্যতম নোয়াখালী , চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা এই সব এলাকার অধিকাংশ লোক বিদেশে থাকে তাদের বেশীরভাগই বিদেশে চাকুরী করে ।

পরিসংখ্যান দেখলে দেখা যায় যে বাংলাদেশের বৃহত্তর নোয়াখালী অংশের লোকজনই বেশী বিদেশে যায়। তারা দেশে এসে বিমানবন্দর থেকে নিজ এলাকায় যেতে অনেক কষ্ট এবং দূর্ভোগ পোহাতে হয়। সে দিকটি বিবেচনা করলে বলা যায় যে নতুন বিমানবন্দরটি নোয়াখালীতে স্থাপন অত্যন্ত যৌক্তিক দাবি। আবার যদি আমাদের দেশের সর্বোচ্চ বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনকারী প্রবাসীদের কথা না ভেবে দেশ উন্নত হচ্ছে এখন অনেক বিদেশী এখানে আসবে সেই চিন্তা করে নতুন বিমানবন্দর তৈরী করা হয় তাহলে সেটি ও হওয়া প্রয়োজন নোয়াখালীতে ।

নোয়াখালী এমন এক জেলা এতে রয়েছে এক সাথে সাগর, নদী,ও বন, আর এই বনে রয়েছে চিত্রা হরিনের এক বিচিত্র মেলা। পরিপূর্ণ এক ব্যদেশের পর্যটন খাত থেকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সেটিকে মাথায় রেখে অবিলম্বে নোয়াখালীর নিঝুম দ্ধীপকে পর্যটন স্পট হিসাবে তৈরী করার মাধ্যনে নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মান করা যেতে পারে। আর তাহা ছাড়া নোয়াখালীতে সরকারি খাস জমির অভাব নেই। সরকার চাইলে নোয়াখালীতে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মান করতে পারে যা দেশের উন্নয়নে অনন্য অবদান রাখবে।

স্বাধীনতা পরবর্তী কোন সরকারই বৃহওর নোয়াখালীবাসীর এই প্রাণের দাবিকে পরিপূর্ণতা দেয়নি। জাতীয়মানের উত্পাদন থাকলেও সঠিক বৈদেশিক বাজারজাতকরণের অভাবে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। অন্যদিকে শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও পর্যটন বিকাশে নোয়াখালী জেলার প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক যথার্থতা ও গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও বারবার শুধুমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থার দোহাই দিয়ে নোয়াখালী জেলাকে নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।

পরিশেষে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ ঢাকার কাছাকাছি কোন স্থানে শত শত কোটি টাকা খরচ করে বিমান বন্দর না করে।প্রবাসী অধ্যাসিত ঢাকা থেকে ১৯৫ ও চট্রগ্রাম থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা, চাঁদপুর ভোলা,ফেনী লক্ষ্মীপুর, এর মধ্যবর্তী স্থান নোয়াখালীতে প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টি নির্মাণ করলে। এই অঞ্চলের পাশাপাশি লাভবান হবে দেশ ও জাতি এবং বদলে যাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি

Facebook Comments