ডেসটিনির কর্তাব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

ওয়াসিম এমদাদঃ ডেসটিনি ২০০০লিঃ এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেইন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীনের মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ডেসটিনির বিনিয়োগকারী, ক্রেতা ও পরিবেশকরা। বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, ডেসটিনিতে সকলের বিনিয়োগ সুরক্ষিত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতি ক্রেতা পরিবেশকরা পুরোপুরি আস্থাশীল। জীবন ও জীবিকার তাগিদে দ্রুত ডেসটিনির ব্যাংক একাউন্ট খুলে দিয়ে ব্যবসায় পরিচালনার স্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে সরকারের কাছে দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। দীর্ঘ ৭ বছরের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ডেসটিনি ২০০০লিঃ এর বিনিয়োগকারী, ক্রেতা-পরিবেশকরা। জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেইন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন জেলে থাকায় থমকে আছে ডেসটিনির ৪৫ লাখ গ্রাহকের জীবনযাত্রা। এসময় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা জানান, ডেসটিনির কাছে তাদের বিনিয়োগ সুরক্ষিত রয়েছে। কোন প্রতারণা না করেও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘদিন ধরে জেলে থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন বিনিয়োগকারী, ক্রেতা ও পরিবেশকরা।

বিনিয়োগকারীদের পক্ষে ইঞ্জি.শহীদুল ইসলাম বলেন, ক্রেতা-পরিবেশকদের রুটি রোজগার এর প্রতিষ্টান ডেসটিনি ২০০০লি. এর ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে আমরা আজ প্রায় দুকোটি মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে জীবনযাপন করছি। এসময় সাধারণ ক্রেতা-পরিবেশকরা আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করে সচ্ছল জীবনযাপন করছিলেন ৪৫ লাখ লোক। কিন্তু কোন অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও বিনা দোষে জেলে রাখা হয়েছে ডেসটিনির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে। প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতে সারাদেশে ডেসটিনির কোটিকোটি টাকার সম্পদ বেহাত হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ক্রেতা পরিবেশকদের পক্ষে মোশাররফ হোসেন বলেন, ডেসটিনির বিরুদ্ধে আমাদের কোন অভিযোগ নেই! তাহলে কার অভিযোগে? কার স্বার্থে আজকে ডেসটিনি গ্রুপ অবরুদ্ধ, আমাদের কর্মসংস্থান অবরুদ্ধ! কাদের স্বার্থে আমাদের অবিভাবকদেরকে জেলে রাখা হয়েছে? সংবাদ সম্মেলনে ডেসটিনির পরিচালকদের অবিলম্বে মুক্তি, সম্পদ রক্ষা ও ব্যাংক একাউন্ট খুলে দেয়াসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন সাধারণ বিনিয়োগকারী ও ক্রেতা পরিবেশকরা। এব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

উপস্থিত বিনিয়োগকারীরা বলেন, ডেসটিনির এমডি এবং চেয়ারম্যানকে মুক্তি দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট যদি খুলে দেয়া হয়, তাহলে আমরা আমাদের এই সম্পদকে জনাব রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসাইন এর কাছে নিরাপদ মনে করি। আমাদের এমডি ও চেয়াম্যানের মুক্তির মাধ্যমেই সকল সমস্যার সমাধান হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। উনাদের মাধ্যমেই আমরা আমাদের বিনিয়োগের টাকা ফেরত পাবো।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, ডেসটিনি ২০০০লি. এর ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সারাদেশে প্রায় ২ কোটি মানুষ এখন বিপন্ন। তাই মানবিক বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীনকে দ্রুত মুক্তি দেয়ার দাবি জানান, সাধারণ বিনিয়োগকারী, ক্রেতা ও পরিবেশকরা।

Facebook Comments